দেশে রেকর্ড সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হয়েছিল ২০২৩ সালে। এ কারণে সদ্য সমাপ্ত বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এ খাত। ২০২৪ সালে দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চা উৎপাদন হয়েছে দেড় কোটি কেজি কম।
দেশে জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত জুন ও অক্টোবর ছাড়া প্রতি মাসেই আগের বছরের তুলনায় কম চা উৎপাদন হয়েছে। ২০২৪ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, সর্বশেষ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৫১ হাজার কেজি। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরে ১৬৮টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা খাতে মোট ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।
চা বোর্ড থেকে আরো জানা যায়, ২০২৩ সালে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি। যদিও শুধু নভেম্বরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৪ হাজার কেজি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় লোকসানে ছিল দেশের বেশির ভাগ চা বাগান। ফলে লোকসান এড়াতে বাড়তি বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়া হয়, যার প্রভাব পড়ে উৎপাদনে। পাশাপাশি ২০২৪ সালে পরিমিত ও নিয়মিত বৃষ্টিপাতের অভাবে চা উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে।
তবে তারা জানান, ২০২৪ সালের নিলামে চায়ের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছে চা বোর্ড। ফলে আন্তর্জাতিক নিলামবাজারে আগের বছরের তুলনায় বাড়তি দামে চা বিপণন হয়েছে।
তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার কেজি। আবহাওয়া ও কয়েক মাসের গড় উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদন ৭০ লাখ কেজির বেশি হবে বলে মনে করছেন না খাতসংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া বছর শেষে চা চাষের উপযোগী আবহাওয়া না থাকায় ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের চা উৎপাদন নিয়েও শঙ্কায় চাষী ও বাগান মালিকরা।
জানতে চাইলে বাংলাদেশের চা সংসদের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চা চাষে বাগানগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। চা উৎপাদনে দেশী সক্ষমতা বাড়াতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হলেও নিলামে চায়ের দাম কমে গিয়েছিল। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি এটি উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।’
দেশে উৎপাদিত চা তিনটি আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে বিপণন হয়। সবচেয়ে প্রাচীন চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্র ছাড়াও শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ের (অনলাইন নিলাম) নিলামে চা বিপণন করে বাগানগুলো। সবচেয়ে বেশি চা লেনদেন হয় চট্টগ্রামের নিলামে। দেশে প্রায় নয় কোটি কেজি চায়ের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় বেশি। তাছাড়া দেশের চা বিশ্ববাজারে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকায় কয়েক বছর ধরে বাড়তি চা অবিক্রীত থাকছে। এ কারণে মজুদও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দামে।
দেশের শীর্ষ চা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছর নিলামে চায়ের সরবরাহ অনেক কম। আগের বছরের নিলামে চায়ের দাম কম থাকায় এ বছর নিলামে কম চা পাঠাচ্ছেন উৎপাদনকারী বাগানগুলো। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।’